আল্ট্রাসনোগ্রাফি কী? ব্যবহার ও নিরাপদ কেন?

আল্ট্রাসনোগ্রাফি এর ইংরেজি “Ultrasonography“। আল্টাসনোগ্রাফি চিকিৎসা উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলন এর মাধ্যমে করা হয়। উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ যখন শরীরের ভেতর এর কোন অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটর পর্দায় গঠন করা হয়।

আল্ট্রাসনোগ্রাফি কি?

আল্ট্রাসনোগ্রাফি হল এমন একটি প্রক্রিয়া যা উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল হয়ে একটি অনুরূপ প্রতিবিম্ব গঠন করে।

কিভাবে আল্ট্রাসনোগ্রাফির দিয়ে রোগ নির্ণয় করা হয়?

১ থেকে ১০ মেগাহার্টজ কম্পাঙ্ক ব্যবহার করে আল্ট্রাসনোগ্রাফির রোগ নির্ণয় করা হয়ে থাকে। ট্রান্সডিউসার নামক একটি স্ফটিকের বিদ্যুতিকভাবে উদ্দীপ্ত বা উত্তেজিত করে উচ্চ ক্ষমতা এর আল্ট্রাসনিক তরঙ্গ উৎপন্ন করা হয়। এই তরঙ্গগুলো একটি সুরু বীম – এ পরিণত করা হয়। এই বীমটিকে অঙ্গের প্রতিবিম্ব রেকর্ড করতে তার দিকে প্রেরণ করা হয়। যে অঙ্গের দিকে নির্দেশ করা হয় সেই অঙ্গের প্রকৃতি অনুযায়ী বীমটি প্রতিফলিত হয়।

আল্ট্রাসনোগ্রাফি রোগ নির্ণয়
আল্ট্রাসনোগ্রাফি রোগ নির্ণয়

যখন বীমটি বিভিন্ন ঘনত্বের পেশির বিভেদ তলে আপতিত হয় তখন অঙ্গের একটি অংশ প্রতিধ্বনি হিসেবে পুনরায় ট্রান্সডিউসারে ফিরে আসে। এরপর প্রতিধ্বনিগুলো তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত হয়ে একটি মনিটরের পর্দায় পরীক্ষণীয় বস্তু বা পেশীর একটি প্রতিবিম্ব গঠন করে । সাধারণত এভাবে আল্ট্রাসনোগ্রাফির রোগ নির্ণয় পদ্ধতি কাজ করে থাকে।

প্রসূতি বিজ্ঞানে আল্ট্রাসনোগ্রাফির ব্যবহার

স্ত্রী রোগ বা প্রসূতি বিজ্ঞানে আল্টাসনোগ্রাফি বেশি ব্যবহার করা হয়। এর সাহায্যে ভ্রুনের আকার, ভ্রুনের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক অবস্থান জানা যায়। ভ্রুনের পরিপূর্ণতা পেয়েছে কিনা তা জানা যায়। প্রসূতি বিজ্ঞানে এটি একটি দ্রুত নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা ব্যবস্থা। এছাড়াও আল্ট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে জরায়ুর টিউমার এবং অন্যান্য পেলভিক মাসের উপস্থিতি সনাক্ত করা যায়।

আল্ট্রাসাউন্ড
আল্ট্রাসাউন্ড

এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেমন: পিত্তপাথর, হৃদযন্ত্রের ত্রুটি, টিউমার সনাক্তকরণে আল্ট্রাসনোগ্রাফির ব্যবহার করা হয়।

ইকোকার্ডিওগ্রাফ কি?

হৃৎপিণ্ড পরীক্ষা করার জন্য যখন আল্ট্রাসাউন্ড ব্যবহার করা হয় তখন এ পরীক্ষাকে ইকোকার্ডিওগ্রাফ বলা হয়।

এক্সরে তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি নিরাপদ কেন?

এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি । এটি সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে। তারা ছাড়া ট্রান্সডিউসারের সবসময় নাড়াচাড়া মধ্যে রাখতে হবে যেন এটি কোন নির্দিষ্ট স্থানে স্থির থাকে না থাকে।

আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে কত টাকা খরচ হয়?

সরকারি হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাফি করতে ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে । কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৮০০ থেকে ২ হাজার বা তার বেশি লাগতে পারে।

আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিনের দাম কত?

১০,০০০ টাকা থেকে শুরু ১০ লক্ষ্য টাকা পর্যন্ত হতে পারে। Digital Ultrasonic Diagnostic Image System এর দাম একটু বেশি ।

আলট্রাসনোগ্রাফি করা কি জায়েজ?

জায়েজ বাচ্চার সুস্থ বা অসুস্থ অবস্থা জানার জন্য। ছেলে হবে কি না মেয়ে হবে? এমন উদ্দেশ্যে জায়েজ না ।

Spread the love

Leave a Comment