শিশুদের টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ, প্রতিরোধের উপায় ও চিকিৎসা।

টাইফয়েড জ্বর স্যালমোনেলা জীবাণুর আক্রমণে হয়ে থাকে। সাধারণত দূষিত খাবার এবং পানির মাধ্যমে এই রোগের জীবাণু ছড়ায়।

আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলেও হতে পারে। এ রোগের কারণে তীব্র জ্বর, মাথা ব্যথা, পেট ব্যথা ,কষ্ঠকাঠিন্য অথবা ডায়রিয়া হয়। শিশু সংক্রমিত হওয়ার ১০ থেকে ১৪ দিন পর জ্বর সহ এই রোগের অন্য লক্ষণ গুলো দেখা যায়। তারপর আক্রান্ত শিশুরা হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

টাইফয়েড জ্বর হওয়ার কারণ

টাইফয়েড একটি মারাত্মক পানিবাহিত রো।গ এই রোগ স্যালমোনেলা টাইফি এবং স্যালমোনেলা প্যারাটাইফি জীবাণুর সংক্রমণে টাইফয়েড জ্বর হয়। স্যালমোনেলা টাইফির সংক্রমনে টাইফয়েড জ্বর বা এন্টারিক ফিভার হয় এবং স্যালমোনেলা প্যারাটাইফির সংক্রমনে প্যারা টাইফয়েড জ্বর হয়।

জীবাণু যুক্ত খাবার, মাছির বা অপরিষ্কার হাতের সাহায্যে এ রোগের জীবাণু পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে।

টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ

শিশুদের টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ
শিশুদের টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ
  • দীর্ঘমেয়াদি জ্বর হয়ে থাকে।
  • প্রচন্ড মাথা ব্যথা করে।
  • গলা ব্যথা হয়।
  • পেট ব্যথা হয়।
  • শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া।
  • জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকে।
  • ডায়রিয়া হয়।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য।
  • চামড়ায় লালচে দানা দেখা যাওয়া।
  • অনেক ক্ষেত্রে এই জ্বর প্রথম সপ্তাহে ধরা পড়ে না দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে জ্বর ধরা পড়ে এবং মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ওষুধ চলাকালীন অবস্থায় ও সপ্তাহখানে জ্বর থাকতে পারে।

টাইফয়েড জ্বরের জটিলতা

জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম সাত দিন যথাযথ চিকিৎসা করা যদি না হয় তবে জ্বর নিজ থেকে ভালো হয়ে যেতে দেখা যায়। হঠাৎ করে জ্বর কমে গেলেও শিশু সুস্থ বোধ করতে দেখা গেলেও অনেক সময় হঠাৎ করে আবার অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে ।অন্যান্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে-

১. নিউমোনিয়া
২. অস্থি ও অস্থি সন্ধির প্রদাহ।
৩. স্নায়ুতন্ত্রের সংক্রমণ।
৪. হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশীতে প্রদাহ।
৫. কিডনির প্রদাহ দেখা যেতে পারে।

টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধ করার উপায়

  • সব সময় ভালোভাবে হাত ধোয়া।
  • নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করা।
  • স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করা।
  • খাবার তৈরি এবং খাবার গ্রহণের পূর্বে, পায়খানা ব্যবহারের পর সাবান \ছাই দিয়ে হাত ধোয়া।
  • কাঁচা বা অপরিষ্কার শাকসবজি ,ফলমূল গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা।
  • খাবার গরম করে খাওয়া।
  • ঘরের জিনিসপত্র নিয়মিত পরিষ্কার করা।
  • টাইফয়েড আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যের জন্য খাবার তৈরি থেকে বিরত থাকা।
  • আক্রান্ত শিশুর ব্যক্তিগত ব্যবহৃত দ্রব্যাদি আলাদা করে রাখা।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষা বা টেস্ট

জ্বরের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষার ফলাফল থেকে টাইফয়েডের জ্বর নির্ণয় কষ্টকর হলেও পরবর্তী সময়ে –

  • রক্তের কালচার।
  • ভিডাল টেস্ট করে।

এই রোগ নিশ্চিতভাবে নিরূপণ করা সম্ভব।

টাইফয়েড জ্বরের চিকিৎসা ও ঔষধ

সাধারণত কোট্রাইমক্সাজল, সিপ্রোফ্লক্সাসিন বা অফুক্সাসিন জাতীয় ওষুধ দিয়ে ওষুধ দিয়ে টাইফয়েডর চিকিৎসা করা হয়।

জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল সিরাপ ,রোগীর অবস্থা যদি খুব খারাপ হয় এবং তিনি যদি মুখে কিছু খেতে না পারেন তবে সিপ্রোফ্লক্সাসিন ইনজেকশন অথবা সেফট্টিয়াক্সন ইনজেকশন দিলে রোগী‌ ক্রমশ সুস্থ হয়ে যাবে।

রোগীর মুখে খাওয়া শুরু করলে ইনজেকশন বন্ধ করে মুখে ওষুধ খাওয়া শুরু করতে হবে। পুরো চিকিৎসা অর্থাৎ ইনজেকশন আর ট্যাবলেট মিলিয়ে চলবে দুই সপ্তাহ।

Spread the love

Leave a Comment