সাইনোসাইটিস কি? এর কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা।

সাইনাস শব্দের অর্থ বাতাসে পরিপূর্ণ কিছু জায়গা বা কঠুরি। আমাদের মস্তিষ্কের যে কুঠুরি আছে এর মধ্যে অনেকগুলো বায়ু কুঠুরি রয়েছে। সাইনাসের কাজ হল মাথাকে হালকা রাখা, মাথাকে আঘাত থেকে রক্ষা করা, কন্ঠস্বরকে সুরেলা করা, দাঁত ও চোয়াল গঠনে সহায়তা করা।

সাইনোসাইটিস বলতে আমরা বুঝি ম্যাক্সিলারি সাইনোসাইটিস। মুখমন্ডলের হাড়ের ভিতর কতগুলো ফাঁপা জায়গা আছে তাকে সাইনাস বলে। কোন কারণে যদি সাইনাসগুলির মধ্যে ঘা বা প্রদাহ হয় তখন তাকে সাইনোসাইটিস বা নাকের উপরে প্রদাহ জনিত রোগ বলে।

সায়োনোসাইটিস হওয়ার কারণ কী?

  • অনেক ঠান্ডা লাগা
  • নাক দিয়ে ক্রমাগত পানি পড়া
  • নাকের পলিপাস হওয়া
  • এলার্জিজনিত রোগ থাকা
  • ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন
  • নাকের ড্রেনেজ ডাক্টে কোন সমস্যা থাকলে বা গঠনগত বিকৃতিও অনেক ক্ষেত্রে সাইনাসের সমস্যার জন্ম দেয়।
  • ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াতেও সাইনাসের সমস্যা হতে পারে।

সাইনোসাইটিস রোগের লক্ষণ কী কী?

sinusitis
sinusitis
  • সাইনোসাইটিস রোগে প্রচন্ড মাথা ব্যথা হয়। সকালে কম থাকে দুপুরের দিকে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যায় আবার বিকেলের দিকে সামান্য কমে যায়।
  • মাথা নাড়াচাড়া করলে, হাঁটলে বা মাথা নিচু করলে ব্যথার তীব্রতা আরো বেড়ে যায়।
  • জ্বর জ্বর ভাব থাকে কোন কিছুতেই ভালো লাগেনা অল্পতেই নিজেকে ক্লান্ত মনে হয়।
  • নাক বন্ধ থাকে ,পরীক্ষা করলে নাকের ভেতরে পুজ পাওয়া যেতে পারে।
  • সাইনাসের এক্সরে করলে সাইনাস ঘোলাটে দেখায়।

সাইনোসাইটিস রোগের জটিলতা

মানবদেহে সাইনাসগুলো চোখ এবং ব্রেনের পাশে থাকে। তাই সাইনাসের ইনফেকশন হলে চোখ এবং মস্তিষ্কের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন-

  • অরবিটাল সেলুলাইটিস এবং এবসেস বা চোখের ভেতরের ইনফেকশন হয়।
  • মেনিনজাইটিস বা ব্রেনের পর্দার প্রদাহ সৃষ্টি করে।
  • এক্সট্রাডুরাল এবং সাবডুরাল এবসেস হয়।
  • অস্টিওমায়েলাইটিস অর্থাৎ মাথার অস্থির প্রদাহ সৃষ্টি করে।
  • কেভেরনাস সাইনাস থ্রম্বোসিস প্রভৃতি হয়।

সাইনোসাইটিস এর কারণে চোখের ভেতরে ইনফেকশন ঢুকে চোখ নষ্ট করে দিতে পারে। আবার মাথার ভেতর ইনফেকশন ঢুকে ম্যানেনজাইটিস এমন কি ব্রেইন এবসেস এর মত মারাত্মক জটিল রোগের জন্ম দিতে পারে।

সতর্কতা

  • ঠান্ডা যেন না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • প্রয়োজনীয় গরম জামা পড়তে হবে।
  • নিজেকে ধুলাবালির হাত থেকে বাঁচিয়ে চলতে হবে।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষা

সাইনোসাইটিস হয়েছে কিনা তা বোঝার ক্ষেত্রে যা ব্যবহৃত হয়-

  • ব্লাড টেস্ট
  • বুকের এক্সরে
  • ন্যাজাল এন্ডোস্কপি।
  • মিউকাস কালচারেরও প্রয়োজন পড়তে পারে।

চিকিৎসা

সাইনোসাইটিস কোন পর্যায়ে রয়েছে তা একিউট না ক্রনিক এগুলো দেখে চিকিৎসা করা হয় ।অস্ত্রোপচার ছাড়াই বেশিরভাগ সাইনোসাইটিস চিকিৎসা করা যায়। রোগীর যখন তীব্র অবস্থা হয় যাকে বলি একিউট সায়ানোসাইটিস। অর্থাৎ হঠাৎ করে হল সেক্ষেত্রে ওষুধে একমাত্র চিকিৎসা।

প্রথমে বন্ধ নাক খোলার জন্য ন্যাজাল ড্রপ বা স্প্রে দেওয়া হয় সঙ্গে সেটিরিজিন বা লিভোসেটিরিজিন গ্রুপের অ্যান্টি অ্যালার্জির ওষুধ। প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টামিন, নাকের ড্রপ এবং ব্যথা নাশক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। যদি ওষুধে রোগ নিরাময় না হয় তবে সাইনাসের ওয়াশ বা আরো বড় ধরনের অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে ‌।

পরামর্শ

সাইনোসাইটিসের কারণে মাথাব্যথা হয়েছে বলে মনে হলে যত দ্রুত সম্ভব একজন নাক, কান, গলা রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক, আন্টি হিস্টামিন, নাকের ড্রপ এবং ব্যথানাশক ঔষধ ব্যবহার করা হয়।

Spread the love

Leave a Comment