স্ক্যাবিস কি? কেন হয়? লক্ষণ, ঔষধ ও চিকৎসা পদ্ধতি।

স্ক্যাবিস(scabies) রোগ যা চুলকানি নামে পরিচিত একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে চর্মরোগ। স্থানীয় নামগুলো হল খোস পাচড়া, দাঁদ, বিখাউস। ‍

Sarcoptes Scabiei নামক এক ধরনের পরজীবী অণুজিব চুলকানি রোগের জন্য দায়ী। স্পর্শের মাধ্যমে সাধারণত এই রোগ হয়। তাছাড়া রোগীর ব্যবহৃত কাপড় ,গামছা ,বিছানার চাদর ও বালিশ ব্যবহার করলে রোগ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুরা এই রোগে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এটি একটি জীবাণু বাহিত রোগ। এক্ষেত্রে শরীরে অসম্ভব রকম চুলকানি দেখা যায় এবং রাতের বেলা চুলকানির তীব্রতা আরও বাড়ে।

স্ক্যাবিস রোগের লক্ষণ

  • সারা শরীর চুলকাতে থাকে ,তবে আঙ্গুলের ফাঁকে, নিতম্বের, যৌনাঙ্গে, হাতের তালুতে, কব্জিতে, বগল ও নাভি এবং কনুইয়ে চুলকানি শুরু হয় এবং পরে ওই স্থানগুলোতে সমস্যা বেশি থাকে ।
  • চুলকানি রাতে বেশি অনুভূত হয়।
  • ছোট ছোট ফুসকুড়ি ওঠে যা খুব চুলকায় এবং তা থেকে পানির মতো তরল বের হতে পারে ।
  • চুলকানির ফলে ক্ষত হতে পারে এবং সেই ক্ষেত্রে স্ট্রেপটোকক্কাস ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয়।

স্কেবিসের প্রতিরোধ

১. পরিবারের একজনের হলে অন্যদের হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই রোগীর যেকোনো ধরনের চুলকানি হলে তার বিছানা ও অন্যান্য ব্যবহৃত কাপড় আলাদা করতে হবে
২. সুস্থ লোকদের সরাসরি রোগীর সংস্পর্শে না আসা ।

স্ক্যাবিস থেকে মুক্তির উপায়? ও চিকিৎসা

প্রধান ও খুব কার্যকরী চিকিৎসা হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা। নিয়মিত রোগীর বিছানার চাদর ,বালিশের কভার, ব্যবহৃত অন্যান্য কাপড় গরম পানিতে ফুটিয়ে পরজীবী মুক্ত করতে হবে। রোগ সাড়ার পর ও রোগীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র এভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। প্রয়োজনে এ রোগের চিকিৎসা পরিবারের সবার একসঙ্গে নেওয়া যেতে পারে।

স্ক্যাবিস (দাঁদ)
স্ক্যাবিস (দাঁদ)

১.৫% পারমেথ্রিন যা বাজারে স্কেবেক্স, স্কেরিন,পারমিন ক্রিম নামে পরিচিত ।যা গলা থেকে পা পর্যন্ত পুরো শরীরে ব্যবহার করতে হবে রাতে এবং ৭ দিন পর আরো একবার একই নিয়মে রাতে ঔষধ ব্যবহার করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে ওষুধ যেন শরীরে কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা থাকে।

২৫ % বেনজাইল বেনজয়েট লোশন যা বাজারে এসকাবিউল লোশন নামে পাওয়া যায়। এই ঔষধ গলা থেকে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীরে ব্যবহার করতে হবে ।প্রতিদিন একবার একদিন পরপর তিনদিন। এই তিনদিন গোসল না করলে ভালো হয় ।যদি গোসল করতে হয় তবে ঔষধ গোসলের পর মাখতে হবে ।

স্ক্যাবিস এর ঔষধ

চুলকানি মারাত্মক অবস্থায় হলে :

১. চুলকানি কমানোর জন্য এন্টিহিস্টামিন(cetirizine, fexofenadine) জাতীয় ঔষধ দিতে হবে।
২. অ্যান্টিবায়োটিক (floxacillin, safranin) জাতীয় ঔষধ দিতে হবে।
৩. Pramoxine lotion বা Hydrocortisone cream দেওয়া যেতে পারে।

বি:দ্র: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করুন।

Spread the love

Leave a Comment