প্রোটোপ্লাজম কাকে বলে? প্রোটোপ্লাজম এর কাজ কি? ও গঠন।

কোষ এর ভেতরের অংশে অর্ধস্বচ্ছ আঠালো এবং জেলির ন্যায় অর্ধতরল কলয়েড ধর্মী প্লাজমা পর্দাবেষ্টিত সজীব উপাদান গুলিকে সমষ্টিগতভাবে প্রোটোপ্লাজম বলে।

প্রোটোপ্লাজম কোষের জীবন্ত পদার্থ যা কোষঝিল্লি দ্বারা বেষ্টিত। এটি জল, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, লিপিড এবং নিউক্লিক অ্যাসিড সহ বিভিন্ন ধরণের অণু দিয়ে তৈরি।

প্রোটোপ্লাজম কয়টি অংশ নিয়ে গঠিত?

প্রোটোপ্লাজমের দুটি প্রধান অংশ রয়েছে:

সাইটোপ্লাজম: কোষঝিল্লি এবং নিউক্লিয়াসের মধ্যে থাকা জেলির মতো তরল পদার্থ। এটি বিদ্যমান কোষের অঙ্গাণুগুলিক হলো- মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম এবং গলজি বস্তু।

নিউক্লিওপ্লাজম: কোষের নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থান করে। এটি কোষের ডিএনএ ধারণ করে, যা কোষের জিনগত উপাদান।

প্রোটোপ্লাজমের কাজ কি?

এখানে প্রোটোপ্লাজমের কিছু নির্দিষ্ট কাজ রয়েছে:

  • বৃদ্ধি এবং প্রজনন: প্রোটোপ্লাজম কোষকে নতুন প্রোটিন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরি করতে দেয় যা বৃদ্ধি এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়।
  • পরিপাক: প্রোটোপ্লাজম কোষকে খাদ্য ভেঙে ফেলতে সহায়তা করে, যা এটি শক্তি এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করতে পারে।
  • শ্বসন: প্রোটোপ্লাজম কোষকে খাদ্য থেকে শক্তি নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে।
  • পরিবহন: প্রোটোপ্লাজম কোষের মধ্যে এবং বাইরে পদার্থ পরিবহন করতে সহায়তা করে।

প্রোটোপ্লাজম একটি জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ পদার্থ যা জীবনের জন্য অপরিহার্য। এটি কোষকে বৃদ্ধি, প্রজনন এবং পরিবেশের পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে।

প্রোটোপ্লাজম কে আবিষ্কার করেন?

১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে টরটি নামক বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম প্রোটোপ্লাজম পর্যবেক্ষণ করেন। পরবর্তীতে, জ্যঁ ইভাঞ্জেলিস্টা পার্কিন নামক একজন চেক শারীরবৃত্তবিদ এবং শারীরতত্ত্ববিদ ১৮৩৯ সালে প্রোটোপ্লাজম আবিষ্কার করেন। তিনি কোষের তরল পদার্থের জন্য ‘প্রোটোপ্লাজম’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন।

পার্কিন উদ্ভিদ কোষ পর্যবেক্ষণ করার সময় দেখতে পেলেন যে কোষের ভেতরে একটি স্বচ্ছ, জেলের মতো পদার্থ রয়েছে। তিনি এই পদার্থকে “প্রোটোপ্লাজম” নাম দেন, যার অর্থ “প্রথম পদার্থ”। তিনি বিশ্বাস করতেন যে প্রোটোপ্লাজম সমস্ত জীবন্ত কোষের একটি মৌলিক উপাদান।

পার্কিনের আবিষ্কার কোষ জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ছিল। এটি বিজ্ঞানীদের বুঝতে সাহায্য করেছিল যে কোষগুলি কীভাবে কাজ করে এবং জীবিত প্রাণীদের মধ্যে কীভাবে সম্পর্কিত।

প্রোটোপ্লাজম এর গঠন

প্রোটোপ্লাজমে চিত্র
প্রোটোপ্লাজমে চিত্র

ভৌত গঠন:

অর্ধ স্বচ্ছ প্রোটোপ্লাজম বর্ণহীন, ঘন অর্ধতরল, জেলি সদৃশ পদার্থ। প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে কিছু দ্রব্য দ্রবণীয় অবস্থায় এবং কিছু দ্রব্য কোলয়েড অবস্থায় বিদ্যমান আছে।

প্রোটোপ্লাজমের ঘন colloid অবস্থাকে gel ও পাতলা colloid অবস্থাকে sol বলে।

প্রোটোপ্লাজমের রাসায়নিক গঠন:

বিভিন্ন প্রাণীর প্রোটোপ্লাজম বিশ্লেষণে প্রায় ৩৬ প্রকার মৌলের সন্ধান পাওয়া যায়।১২ প্রকার মৌলিক পদার্থ সব প্রাণীর প্রোটোপ্লাজমে থাকে।

প্রোটোপ্লাজম বিভিন্ন জৈব ও অজৈব পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত। এ সকল জৈব ও অজৈব পদার্থ কঠিন, তরল, গ্যাসীয় অবস্থায় থাকতে পারে। প্রোটোপ্লাজম এর চারটি মুখ্য উপাদানের মধ্যে অক্সিজেন ৬২% ,কার্বন ২০%, হাইড্রোজেন ১০%, ও নাইট্রোজেন ৩% থাকে।

অবশিষ্ট অক্সিজেন ,কার্বন ,হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, সালফার এবং ফসফরাস থাকে।

অবশিষ্ট আটটি উপাদান প্রোটোপ্লাজমের বাকি অংশ গঠন করে। এছাড়াও প্রোটোপ্লাজমে বোরণ, তামা, সিলিকা, ফ্লোরিন, জিংক ও কোবাল্ট ,পাওয়া যায়।

প্রোটোপ্লাজমের জৈব উপাদানের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, এনজাইম, হরমোন, নিউক্লিক অ্যাসিড, ভিটামিন থাকে। এবং অজৈব উপাদানের মধ্যে পানি, লবণ ইত্যাদি থাকে।

প্রোটোপ্লাজমের৭৫-৯০% পানি। খনিজ উপাদানের মধ্যে ক্লোরাইড ফসফেট, সালফার কার্বনেট, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, লোহা ইত্যাদি।

গ্যাসীয় উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন ও কার্বনডাই-অক্সাইড পাওয়া যায়। বিজ্ঞানী হেক্সোলের মতে, প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি বলা হয়

প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ শতকরা কত?

প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ শতকরা ৭০% থেকে ৯০% পর্যন্ত হতে পারে।
উদ্ভিদ কোষের প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ ৯০% এর কাছাকাছি থাকে।
প্রাণী কোষের প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ ৭০% থেকে ৮০% পর্যন্ত হতে পারে।

Spread the love

Leave a Comment