মাইটোসিস কোষ বিভাজন কাকে বলে? পর্যায় সমূহ ও গুরুত্ব।

মাইটোসিস কোষ বিভাজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বেশিরভাগ সময় শিক্ষার্থীদের এই মাইটোসিস থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন এসে থাকে।

মাইটোসিস কাকে বলে?

যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃত কোষ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষে পরিণত হয় এবং সৃষ্ট অপত্য কোষ বা নতুন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা গঠন ও গুণাগুণ মাতৃকোষের মত হয় তাকে মাইটোসিস বলে। এই বিভাজনকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়

এ বিভাজন প্রক্রিয়া দেহকোষে ঘটে ।

মাইটোসিস কয়টি ধাপে বা পর্যায়ে বিভক্ত?

মাইটোসিসের ধাপ বা পর্যায় সমূহ
মাইটোসিসের ধাপ বা পর্যায় সমূহ

মাইটোসিস পাঁচটি ধাপে বা পর্যায় বিভক্ত। যথা:

  1. প্রোফেজ।
  2. প্রো-মেটাফেজ।
  3. মেটাফেজ।
  4. অ্যানাফেজ।
  5. টেলোফেজ।

প্রোফেজ (Prophase)

প্রোফেজ চিত্র
প্রোফেজ চিত্র

প্রোফেজ মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার দীর্ঘস্থায়ী পর্যায়। এ ধাপে নিম্নে বর্ণিত ঘটনাবলী সংঘটিত হয়:

  • কোষের নিউক্লিয়াস আকারে বড় হয়।
  • পানি বিয়োজনের ফলে জড়ানো সুতার মত নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম ভেঙে গিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা কতগুলো শুরু আঁকাবাঁকা সুতার মত ক্রোমোজোম গঠিত হয়।
  • প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বি দুভাবে বিভক্ত হয়ে দুটি করে ক্রোমাটিড উৎপন্ন করে।
  • সেন্ট্রোমিয়ার নামক বিন্দুতে যুক্ত হয়ে পরস্পর প্রায় সমান্তরালে অবস্থান করে।
  • ক্রোমোজোম গুলো স্প্রিং এর মত কুন্ডলিত হয়ে ক্রমশ খাটো মোটা হতে থাকে।

প্রো মেটাফেজ (Pro-metaphase)

প্রো-মেটাফেজ চিত্র
প্রো-মেটাফেজ চিত্র

এটি মাইটোসিসের দ্বিতীয় ধাপ বা পর্যায়। এ পর্যায় স্বল্পস্থায়ী।

  • নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিয়াসের বিলুপ্তি ঘটতে থাকে।
  • প্রতিনিয়র্মিত একটি স্পিন্ডল যন্ত্র এর আবির্ভাব ঘটে।
  • এ স্পিন্ডল যন্ত্রে দুই ধরনের তন্তু দেখা যায়:
    • এক মেয়ের থেকে অপর মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত স্পিন্ডল তন্তু।
    • ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারের সাথে যুক্ত ক্রোমোজোমাল বা আকর্ষন তন্তু।

প্রাণী কোষে দুই মেরুতে অবস্থিত সেন্ট্রিওল থেকে অ্যাস্টার রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়।

মেটাফেজ (Metaphase)

মেটাফেজ চিত্র
মেটাফেজ চিত্র

এটি মাইটোসিস কোষ বিভাজনের তৃতীয় ধাপ বা পর্যায়।

  • এ ধাপে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিয়াসের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটে।
  • স্পিন্ডল যন্ত্রের গঠন সম্পূর্ণ হয়।
  • ক্রোমোজোম গুলো বিষুবীয় অঞ্চলের এসে সেন্ট্রোমিয়ারের মাধ্যমে ক্রোমোজোমাল তন্তুর সাথে লেগে যায়।
  • এ পর্যায়ে ক্রোমোজোম গুলো খাটো ও মোটা দেখায়।
  • এ পর্যায়ের শেষের দিকে সেন্ট্রোমিয়ারের বিভাজন শুরু হয়।

অ্যানাফেজ (Anaphase)

অ্যানাফেজ চিত্র
অ্যানাফেজ চিত্র

এটি মাইটোসিস কোষ বিভাজনের চতুর্থ ধাপ বা পর্যায়।

  • প্রতিটি ক্রোমোজোম সেন্ট্রোমিয়ার দুইভাবে বিভক্ত হয় যার ফলে ক্রোমাটিড দুটি আলাদা হয়ে পড়ে এ অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোজোম বলে এবং এতে একটি করে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে।
  • ক্রোমোজোমগুলো অর্ধেক এক মেরুর দিকে এবং বাকি অর্ধেক অন্য মেরুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
  • অপত্য ক্রোমোজোম সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ভিন্নতার জন্য এ সময় ক্রোমোজোম গুলোকে ইংরেজি বর্ণমালা V, L, J ও I এর মত দেখায়।
  • অ্যানাফেজ দশার শেষের দিকে অপত্য ক্রোমোজোম গুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের মেরু প্রান্তে অবস্থান নেয় এবং ক্রোমোজোমের প্যাচ খুলে এর দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

টেলোফেজ (Telophase)

টেলোফেজ চিত্র
টেলোফেজ চিত্র

এটি মাইটোসিস কোষ বিভাজনের শেষ পর্যায়ে এতে যেসব পরিবর্তন দেখা যায় তা অনেকটা প্রফেজের বিপরীত।

  • আপত্য ক্রোমোজোমগুলো বিপরীত মেরুতে এসে পৌঁছায়।
  • নিউক্লিয়াসের পূর্ণ আবির্ভাব ঘটে।
  • ক্রোমোজোম গুলোতে পানি যোজন ঘটে এবং প্যাচ খুলে যেতে থাকায় এরা আগের তুলনায় অনেক বেশি সরু ও লম্বা আকার ধারণ করে। অবশেষে এরা জড়িয়ে গিয়ে নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম গঠন করে।
  • নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম কে ঘিরে পুনরায় নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এর আবির্ভাব ঘটে ফলে দুই মেরুতে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠিত হয়।
  • স্পিন্ডল যন্ত্রের কাঠামো ভেঙ্গে পড়ে এবং তন্তুগুলো ধীরে ধীরে অদৃশ্য হতে থাকে।

মাইটোসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্ব

  • এ বিভাজন প্রক্রিয়ার ফলে প্রতিটি কোষে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের আয়তন, পরিমাণগত ভারসাম্য বজায় থাকে।
  • এর ফলে বহুকোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। যেমন: এককোষী ভ্রুণ বিভাজনের মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ মানুষে পরিণত হয়।
  • এ বিভাজনের ফলে কোষের স্বাভাবিক আকার আকৃতি ও আয়তন বজায় থাকে।
  • এর ফলে সৃষ্ট অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা গুণাগুণ একই রকম থাকে।
  • মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবদেহের জিন ঘটিত স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকে।
  • জীবজগতে গুণগত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
  • অতিরিক্ত মাইটোসিস বিভাজনের ফলে ক্যান্সার ও টিউমারি সৃষ্টি হয়ে থাকে।

ইন্টারফেজ কি?

মাইটোসিস কোষ বিভাজন একটি অবিচ্ছিন্ন বা ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় প্রথমে ক্যারিওকানেসিস অর্থাৎ নিউক্লিয়াসের বিভাজন ঘটে এবং পরবর্তীতে সাইটোকাইনেসিস অর্থাৎ সাইটোপ্লাজমের বিভাজন ঘটে।
এ অবস্থা কে ইন্টারফেজ বলে।

কোষ বিভাজনের কোন দশায় নিউক্লিয়াসের বিলুপ্তি ঘটে?

প্রোফেজ ধাপের শেষের দিকে নিউক্লিয়াসের মেমব্রেনের বিলুপ্তি ঘটে।
প্রো-মেটাফেজ ধাপের শেষের দিকে নিউক্লিয়াসের মেমব্রেন ও নিউক্লিয়াসের বিলুপ্তি ঘটে।
মেটাফেজ ধাপে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিয়াসের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটে।

Spread the love

Leave a Comment