জীববৈচিত্র্য কাকে বলে? ও জীববৈচিত্র্যর গুরুত্ব।

পৃথিবীতে বিদ্যমান সকল জীবের মধ্যে বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে জীববৈচিত্র্য বলে।

এটি তিনটি প্রধান স্তরে বিভক্ত:

১) জিনগত বৈচিত্র্য: একই প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান জিনগত বৈচিত্র্য।

২) প্রজাতিগত বৈচিত্র্য: বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ, প্রাণী এবং অনুজীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্য।

৩) বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য: বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্র যেমন বন, মরুভূমি, জলাভূমি, ইত্যাদির মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্য।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ,বিশেষ করে মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অনুজীব সহ সকল জীবকুলের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নিম্নে জীব বৈচিত্রের বিভিন্ন গুরুত্ব উল্লেখ করা হলো:

জেনেটিক সম্পদ

বুনো প্রজাতি থেকে ব্যাপক সংকরায়নের মাধ্যমে উন্নত জাতের উদ্ভিদ ও প্রাণী বিভিন্ন রকমের ভ্যারাইটি উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়।

এভাবে সমৃদ্ধশালী জিন ভান্ডার থেকে উচ্চ ফলনশীল ও রোগবালাই প্রতিরোধক্ষম জাত উৎপাদনের জন্য জীববৈচিত্র্য জেনেটিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ

মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র ,ঔষধ, জ্বালানি ইত্যাদি বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকেই সংগ্রহ করে থাকে। বিশ্বের প্রায় ৩০ টি উদ্ভিদ প্রজাতি থেকে মানুষ খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে।

আমিষ জাতীয় খাদ্যের অধিকাংশই প্রাণীর মাংস থেকে এবং ওষুধের উৎপাদন হয় বিভিন্ন উদ্ভিদ ও অনুজীব থেকে। এভাবে মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে মানুষ জীববৈচিত্র্য কে ব্যবহার করে।

নৈতিক গুরুত্ব

পৃথিবীর সব সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিষধর সাপের বিষ যেমন ঔষধ সৃষ্টি করে মানুষের প্রাণ রক্ষা করে ঠিক তেমন ফসল ধ্বংসকারী ইঁদুর নিধন করে মানবজাতির অশেষ উপকারও করে থাকে। এই পৃথিবীতে আগত সব জীবেরই এখানেই বসবাসের অধিকার রয়েছে এবং এখানে সংরক্ষিত সম্পদ ভোগেরও অধিকার রয়েছে।

সুতরাং তাদেরকে জঞ্জাল মনে করার কোন কারণ নেই। তারাও এ পৃথিবীর সমান অংশীদার হিসেবে মেনে নেওয়ায় নৈতিক দায়িত্ব। এদিক বিবেচনা করে জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব অনুধাবন করা মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।

বাস্তুতান্ত্রিক সাম্যবস্থা

সমৃদ্ধশালী জীববৈচিত্র সম্পন্ন বাস্তুতন্ত্র থেকে এক বা একাধিক প্রজাতি কোন কারনে অপসারিত হলেও কোন বিপর্যয় ঘটে না। কারণ বিকল্প হিসেবে অন্য কোন প্রজাতি খাদ্য বা খাদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে পুষ্টি দ্রব্যের পরিসঞ্চালন ও শক্তি প্রবাহের ধারাবাহিকতা অখুন্ন রাখে।

জীববৈচিত্র্য - শামুক
জীববৈচিত্র্য – শামুক

ফলে বাস্তুতন্ত্রটি বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় । কাজেই সুস্থিত পরিবেশ বজায় রাখার জন্য জীববৈচিত্রের গুরুত্ব রয়েছে।

নান্দনিক গুরুত্ব

প্রজাতির সৃষ্টিকর্তার এক অপূর্ব সৃষ্টি তাই প্রাকৃতিক বৈচিত্র মানুষকে মুগ্ধ করে। সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ তার পিপাসার নিবারণের জন্য মাছ ধরে, পাখির স্বীকার করে ,নানান জাতের প্রাণী পোষে, বাগান করে।

মানুষ জীববৈচিত্র অবলোকন করার জন্য কত দূর দূরান্তে এমন কি এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ করে। এক কথায় জীব বৈচিত্র মানুষের মনকে আনন্দে ভরিয়ে তুলে।

অন্যান্য ক্ষেত্রে জীব বৈচিত্রের গুরুত্ব

  • Legumianceae গোত্রের শীম জাতীয় উদ্ভিদ সরাসরি বায়ু থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
  • ময়লা খাদক( Scavenger) ও অনুজিব বর্জ্য দ্রব্য পচনে ও পরিশোষণে সাহায্য করে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখে।
  • মৃত্তিকা ক্ষয় রোধে বিভিন্ন উদ্ভিদ যেমন কার্যকর ভূমিকা রাখে তেমনি ভূমি গঠনে সমুদ্র-দ্বীপ গঠনে জীববৈচিত্রের ভূমিকা অনন্য।
  • জীব বৈচিত্রের একটি বড় অংশ উদ্ভিদ মূল দ্বারা মাটি থেকে পানি শোষণ করে প্রস্বেদনের মাধ্যমে বায়ুমন্ডলে ফিরিয়ে দেয়। ফলে এই পৃথিবীতে পানি চক্র সচল থাকে। যার জন্য বায়ুর আদ্রতা ও বৃষ্টিপাত বজায় থাকে।
  • জীববৈচিত্রের সদস্য সবুজ উদ্ভিদ ক্লোরোফিলের সহায়তায় সৌরশক্তি সংবন্ধন করে। যার ফলশ্রুতিতে খাদ্যচক্র ও শক্তির প্রবাহ পরিসঞ্চালনের মধ্য দিয়ে সকল জীবের বেঁচে থাকার ভিত্তি রচিত হয়।
Spread the love

Leave a Comment