আইসোটোপ কাকে বলে? তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার?

আইসোটোপ সম্পর্কে জানতে ও শিখতে ও শিখতে এই ব্লগ পোস্টটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন যাতে আশা করি আপনার আইসোটোপ সম্পর্কে সুষ্ঠ ধারণা সৃষ্টি হবে।

আইসোটোপ কাকে বলে?

যাদের প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে।

আইসোবার কাকে বলে?

যাদের ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে।

আইসোটোন কাকে বলে?

যাদের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা উভয়ই ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোন বলে।

মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বলতে কি বুঝ?

হাইড্রোজেনের তিন ধরনের আইসোটোপের শতকরা পর্যাপ্ততার পরিমাণকে গড় করলে এর ভর পাওয়া যায় ১.০০৮ একে আমরা এই মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর বলতে পারি ।

মৌলের আপেক্ষিক পারমানবিক ভর নির্ণয়ের সূত্র?

মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর সূত্র
মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর সূত্র

আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর থেকে আপেক্ষিক আণবিক ভর নির্ণয়?

নাইট্রোজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর ১৪।
নাইট্রোজেন অনু ২টি পরমাণু নিয়ে গঠিত। অর্থাৎ নাইট্রোজেনের (N2)আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর হবে=১৪x২=২৮।
অর্থাৎ ১৪ হল নাইট্রোজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর এবং ২ হলো পরমাণু সংখ্যা।

তেজস্ক্রিয় রশ্নি কাকে বলে?

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে যে সমস্ত রশ্মি নির্গত হয় তাদেরকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি বলে।

তেজস্ক্রিয়তা কাকে বলে?

পৃথিবীতে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উপায়ে তৈরি আইসোটোপের সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়েছে। এই আইসোটপের মধ্যে কিছু সুস্থিত এবং বেশিরভাগ অস্থিত। অস্থিত আইসোটোপ গুলো বিভিন্ন ধরনের রশ্নি যেমন-আলফা ,বিটা ,গামা বিকিরণ করে অন্য মৌলের আইসোটোপে পরিণত হয়। মৌলের পরমাণুর এই ধর্মকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার?

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়-

১.চিকিৎসা ক্ষেত্রে,
২.কৃষি ক্ষেত্রে ,
৩.খাদ্য সংরক্ষণে ও
৪.বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

১. চিকিৎসা ক্ষেত্রে:

এক্ষেত্রে প্রধানত দুই ধরনের ব্যবহার রয়েছে আইসোটোপের। যথা-

ক.রোগাক্সান্ত স্থান নির্ণয়
খ. রোগ নিরাময়।

দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কেন কোথায় ব্যথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য Tc-99m ইনজেকশন দিলে বেশ কিছু সময় পরে পর্দায় দেখা যায় হারের কোথায় কি ধরনের সমস্যা আছে। 99mTc থেকে গামা রশ্নি নির্গত হয় । ভর সংখ্যার পরে ‘m’ দ্বারা আইসোটোপের মেটাসটাবল অবস্থা প্রকাশ করে। 99mTc থেকে গামা রশ্নি নির্গত হওয়ার পর 99Tc ভর বিশিষ্ট আইসোটোপে উৎপন্ন হয়।

  • 153Sm অথবা 89Sr ব্যবহার করে হাড়ের ব্যথার চিকিৎসা করা হয়।
  • টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও তা নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। নিরাময়ের জন্য 60CO থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার কোষ কলা কে ধ্বংস করে ।
  • 131I থাইরয়েড গ্রন্থির কোষকলাবৃদ্ধি প্রতিহত করে।
  • রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় 32P এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
  • প্লুটোনিয়াম-238 হার্টে পেসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়।
  • আরো বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার নিরাময়ে 131Cs, 192Ir, 125I, 103Pd, 106Ru ব্যবহৃত হয়।

২. কৃষি ক্ষেত্রে:

তেজস্ক্রিয় রশ্নি ব্যবহার করে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন নতুন উন্নত মানের বীজ উদ্ভাবন করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে ফলনের মানের উন্নতি ও পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। তেজস্ক্রিয় 32P যুক্ত ফসফেট দ্রবণ উদ্ভিদের মূল ধারায় সূচিত করা হয় । গাইগার কাউন্টার ব্যবহার করে পুরো উদ্ভিদে এর চলাচল চিহ্নিত করে বিজ্ঞানীরা কী কৌশলে ফসফরাস ব্যবহার করে উদ্ভিদ বেড়ে ওঠে তা জানতে পারেন।

৩. খাদ্য সংরক্ষণে:

সকল প্রকার শাকসবজি, ফল সঠিক সংরক্ষণের অভাবে বা রান্না প্রক্রিয়া সঠিক না হলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয় যা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ক্ষেত্র বিশেষে মৃত্যুর কারণ পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত 60Co থেকে যে গামা রশ্মি নির্গত হয় তা এসব ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। পোল্ট্রি ফার্মেও ব্যবহার করা হয় যখন কোন ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের উদ্ভব ঘটে।

একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রয়োগ করে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয় । অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয় রশ্নি ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। খাদ্যদ্রব্যে তেজস্ক্রিয় রশ্নি অবশ্যই পরিমিত মাত্রায় সংরক্ষিত স্থানে প্রয়োগ করতে হবে। এ তেজস্ক্রিয় গামা রশ্নি সূর্যের আলোর ন্যায় নিরাপদ।

৪. বিদ্যুৎ উৎপাদনে:

আইসোটোপ সমূহ ক্ষয়ের সময় বা নিউক্লিয় বিক্রিয়ার সময় প্রচুর পরিমাণে তাপ উৎপন্ন করে। এই তাপ শক্তিকে বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় ।পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পারমাণবিক চুল্লি থেকে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয় নিউক্লিয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে।

নিউক্লিয় বিদ্যুত উৎপাদন
নিউক্লিয় বিদ্যুৎ উৎপাদন

এছাড়াও কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে ,শিল্প ক্ষেত্রে, ধাতব পাতের পুরুত্ব পরিমাপে ,বদ্ধ পাত্রে তরলের উচ্চতা পরিমাপে,পাইপ লাইনে ছিদ্র অন্বেষণে 14C দ্বারা ফসিল মমিসহ পৃথিবীর যাবতীয় বস্তু এমনকি পৃথিবীর বয়স নির্ধারণ করা যায়।

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব:

তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে বিভিন্ন ধরনের রশ্নি নির্গত হয় ।এই পদার্থ সমূহের কোনটির সময়কাল লাইফ টাইম ,আবার কোনটির বেশি, আবার কম। তেজস্ক্রিয়তা ক্যান্সার হওয়ার বিশেষ একটি কারণ। সঠিক মাত্রায় ব্যবহার না করলে তা কল্যাণকর না হয়ে অকল্যাণের কারণ হয়ে দাঁড়ায় ।

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ

কেমোথেরাপিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহার করা হয় । কেমোথেরাপির ফলে মাথার চুল পড়ে যায় ,বমি বমি ভাব হয় অনেক সময় আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। নিউক্লিয় বিক্রিয়া হতে প্রাপ্ত নিউক্লিয় শক্তি যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তেমনি ধ্বংসাত্মক কাজের জন্য ব্যবহার হয়। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত এটম বোমা সহ সব ধরনের পারমাণবিক বোমার শক্তির উৎস নিউক্লিয় বিক্রিয়া।

[বি: দ্র: পাঠ্য বইয়ের আলোকে আলোচনা করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই বুঝতে পারে ও শিখতে পারে।]

হাইড্রোজেনের আইসোটোপ কয়টি ও কি কি?

হাইড্রোজেনের আইসোটোপ ৩ টি। যথা: ১. প্রোটিয়াম, ২. ডিউটিরিয়াম ও ৩. ট্রিটিয়াম।

আইসোটোপ নেই এমন একটি মৌলের নাম লেখ?

আইসোটোপ নেই এমন একটি মৌল হলো বেরিলিয়াম । এছাড়াও সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ , কোবাল্ট, ইয়িটরিয়াম, রোডিয়াম ও আয়োডিন এ প্রকৃিতিক ভাবে আইসোটোপ নেই।

Spread the love

Leave a Comment