হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ, দূর করার উপায় ও করনীয়।

হার্ট ব্লক হল এমন একটি অবস্থা যেখানে হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেতগুলির চলাচল ব্যাহত হয়, যার ফলে হৃৎস্পন্দন ধীরে হয় বা অনিয়মিত হয়।

হৃৎপিণ্ডের চারটি চেম্বার রয়েছে: দুটি অ্যাট্রিয়া (উপরের চেম্বার) এবং দুটি ভেন্ট্রিকল (নিম্ন চেম্বার)। বিদ্যুৎ সংকেতগুলি অ্যাট্রিয়ায় শুরু হয় এবং ভেন্ট্রিকলে চলাচল করে, যা হৃৎপিণ্ডকে সংকুচিত করে এবং রক্ত ​​পাম্প করে সারা শরীরে পৌছে দেয়।

হার্ট ব্লক কি?

হৃদপিন্ডে পানি এবং রক্ত সরবরাহের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকে এই দুটি ব্যবস্থা পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে। এই সমন্বয়ে্র প্রক্রিয়ায় বাধা বা সমস্যাকে হার্ট ব্লক বলে।

নিজস্ব রক্তনালীর মাধ্যমে পরিচালিত রক্ত প্রবাহের সমস্যাকে ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ বলা হয়।

হৃদপিন্ডের রক্তনালীর সংকোচন এর জন্য এই ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ হয়ে থাকে। তাই সহজ ভাবে বলা যায়-
হৃদপিন্ডের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সমস্যা কে হার্ট ব্লক বলে। হৃদপিন্ডের রক্ত সরবরাহের সমস্যা কে ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ বলে।

হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ

হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ
হার্ট ব্লক

হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ ও কারণ নিম্নে দেওয়া হলো:

হার্ট ব্লক কেন হয়?

হৃদপিণ্ডের প্রদাহ জনিত সমস্যার কারণে। বার্ধক্য বা বয়স বাড়ার সাথে সাথে এ রোগের সম্ভাবনা বাড়ে। ঔষধ সেবনের ফলে। হৃৎপিণ্ডে আঘাত পেলে ও অনেক সময় জন্মগত কারনেও হয়ে থাকে।

হার্ট ব্লক রোগের লক্ষণ

  • মাথা ঘোরা বা মাথা ব্যাথা
  • অল্প সময়ের জন্য অজ্ঞান হওয়া।
  • পাল্পিটেশন।
  • বুকে ব্যথা।
  • দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন।

হার্ট ব্লক দূর করার উপায়

চিকিৎসার অর্থনৈতিক ঝুঁকি মুক্তির উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। জীবনযাত্রায় হার্ট ব্লকের সম্ভাবনা অনেক কমিয়ে আনে । হার্ট ব্লক প্রতিরোধের জন্য আমাদের যা করণীয় –

  • প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করবেন।
  • তেল চর্বি মিষ্টি কম খাবেন।
  • সুষম খাবার খাবেন।
  • প্রচুর শাকসবজি খাবেন।
  • পরিমিত পানি পান করবেন।
  • হার্ট ব্লকের কোন কারণ জানা থাকলে যথাযথ চিকিৎসা করাবেন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ খাবেন না।
  • ধূমপান ও মদ্যপান করবেন না।

চিকিৎসা:

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ধারাবাহিক চিকিৎসা নিতে হয়। চিকিৎসার দুইটি ধাপ হল-

  • হার্ট ব্লকের কারণে চিকিৎসা।
  • (সহায়ক চিকিৎসা) প্রয়োজনমতো পেসমেকার স্থাপন করা।

হার্ট ব্লক নির্ণয়ের জন্য ল্যাবরেটরি পরীক্ষা:

১.ইসিজি
২.ইকোকার্ডিওগ্রাফি
৩.হলটার মনিটরিং
৪.ইপিস্টাডি
৫.রুটিন পরীক্ষা।

Spread the love

Leave a Comment