এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম কাকে বলে? এর কাজ ও বৈশিষ্ট্য।

পরিণত কোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত যেসব জালিকা পরস্পর যুক্ত হয়ে জটিল জালিকার সৃষ্টি করে তাকে এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (Endoplasmic reticulum) বলে।

এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম কে আবিষ্কার করেন?

এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (ER) কে আবিষ্কার করেছিলেন তিনজন বিজ্ঞানী:

  • কিথ পোর্টার (Keith R. Porter)
  • হেলেন পি. থমসন (Helen P. Thompson)
  • ফ্রান্সিস কেলমেন (Francis O. Schmitt)

১৯৪৫ সালে যকৃত কোষে।
১৯৫৩ সালে George E. Palade এর কে নামকরণ করেন।

অবস্থান:

কোষের সাইটোপ্লাজমে এন্ড্রোপ্লাজমিক রেটিকুলাম অবস্থান করে।

উৎপত্তি:

এন্ডোপ্লাজমিক প্লাজমা পর্দা বা নিউক্লিয় পর্দা থেকে উৎপন্ন হয়।

আকার:

এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম নালিকার মত বা নলাকার সুতার মতো হয়ে থাকে।

এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম গঠন:

ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম কে বিক্ষিপ্ত অথবা বিন্যস্ত ফাঁপা নালিকার মত দেখায়।

এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম কত প্রকার?

গঠন বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম কে নিন্মক্ত দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা :-

মসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম:

এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম এর বহির্ভাগে যেসব রাইবোজমে দানা থাকে না তাদেরকে মসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম বলে।

মসৃন এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
মসৃন এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম

উদাহরণ: যকৃতে গ্লাইকোজেন সঞ্চয়কারী কোষে মসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম পরিলক্ষিত হয়।

অমসৃন এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম:

যে এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের পর্দার বহি: গাত্রে রাইবোজোম এ সজ্জিত থাকে তাকে অমসৃন এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম বলে।

উদাহরণ:- প্রোটিন সংশ্লেষণকারী যকৃত কোষে প্রচুর পরিমাণে অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকলাম দেখা যায়।

আকৃতি অনুযায়ী এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১. সিস্টারনি:

লম্বা শাখাবিহীন ও সমান্তরালভাবে গুচ্ছাকারে অবস্থিত এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম কে সিস্টার্নি বলে ।
উদাহরণ: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ও অগ্নাশয় কোষে এদের দেখা যায়।

২. ভেসিকল:

২৫ – ৫০ nm ব্যাস বিশিষ্ট গোল বা ডিম্বাকার থলির মত যে এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম সাইটোপ্লাজম এ ছড়ানো থাকে তাকে ভেসিকল বলে।

৩. টিউবিউল:

নলাকার ,মসৃণ গাত্রবিশিষ্ট যে এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম অনিয়তভাবে সাইটোপ্লাজম এ ছড়ানো থাকে তাকে টিউবিউল বলে।
উদাহরণ:- যকৃত কোষের সিস্টার্নি প্রান্তে শাখা-প্রশাখা যুক্ত টিউবিউল দেখা যায়।

এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম এর কাজ:

  • কোষের ঝিল্লি তৈরিতে সাহায্য করে।
  • রাসায়নিক বিক্রিয়ার ক্ষেত্র বৃদ্ধি করে।
  • কোষের ভেতরে বিভিন্ন দ্রব্যাদি পরিবহন করে।
  • প্রোটিন সংশ্লেষণে সহায়তা করে।
  • সংশ্লেষিত পদার্থ সংগ্রহ ও সঞ্চয় করে।
  • লিপিড ও স্টেরয়েড সংশ্লেষণ করে।
  • বিভিন্ন কোষ অঙ্গাণু সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
  • কোষের ক্যালসিয়াম স্তর নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • কোষ গহবর ও অন্যান্য অঙ্গানু গঠনে অংশগ্রহণ করে।
  • কোষের কঙ্কাল হিসেবে কাজ করে ও কোষের আকৃতি বজায় রাখে।
  • নিউক্লিয়াসের সংশ্লেষিত RNA জালিকার মাধ্যমে বাহিত হয়।
  • এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম যকৃত কোষে অনেক জৈব যৌগের বিষক্রিয়া নিরসনে সাহায্য করে।
Spread the love

Leave a Comment