শৈবালের অর্থনৈতিক গুরুত্ব। উপকারিতা ও অপকারিতা।

শৈবাল শব্দটির প্রচলন অনেক বছর পরে হলেও এটি প্রাচীন চৈনিক সাহিত্যে শৈবাল শ্রেণীর উদ্ভিদের নানা ব্যবহারের বিবরণ লিপিবদ্ধ রয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার প্রজাতি নিয়ে গঠিত শৈবাল জগত। এসব শৈবালের বিভিন্ন সদস্য মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন উপকরণ তৈরির কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে।

আনুমানিক ধারণা করা হয় প্রায় ২৫০০ বছর আগে খাদ্য তৈরীর জন্য শৈবাল ব্যবহারের প্রচলন ছিল। তা বর্তমান সময়ে কৃষি, শিল্প, চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য, বিলাসবহুল সামগ্রী ও মহাকাশ গবেষণা বিভিন্ন কাজের শৈবালের বিচিত্র ব্যবহার দেখা যায়। বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতেও এর অবদান রয়েছে। কাজেই শৈবালের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।

শৈবাল যে আমাদের শুধু উপকার করে এটা নয় আমাদেরও কখনো কখনো বিভিন্ন সময় এটি অপকারও করে থাকে।

শৈবালের উপকারিতা

খাদ্য, সার, ভিটামিন ও ওষুধের উৎস, শিল্প ও কৃষি ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উৎস হিসেবে শৈবালের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

খাদ্য হিসেবে শৈবালের ব্যবহার:

শৈবাল হলো মাছ ও অন্যান্য জলের প্রাণীর প্রধান খাদ্যের উৎস। আবার মানুষের খাদ্যের একটি অন্যতম উৎস হলো মাছ। পরোক্ষভাবে এটি মানুষের খাদ্যের উৎস। এছাড়াও মানুষের প্রোটিন জাতীয় খাদ্য যোগানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শৈবাল। প্রায় শতাধিক প্রজাতির অধিক ফিওফাইসি এবং রোডোফাইসি শ্রেণীর শৈবাল খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আবার কোন কোন সমুদ্র অঞ্চলে অধিবাসীরা শৈবালকে সরাসরি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। শৈবালে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি ও সি থাকে। প্রসকট ১৯৬৯ এর মতে, বাদামি শৈবালে খাদ্যমান হিসেবে ৬. ১৫% প্রোটিন, ১.৫৬% ফ্যাট, ৫৭.০৪% কার্বোহাইড্রেট ও প্রচুর খুনিশ লবণ, থায়ামিন থাকে। চীন জাপান কোরিয়ার প্রভৃতি অঞ্চলের আদিবাসীরা Porphyra খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। ব্রাজিলের অধিবাসীরা Nostoc কলোনিকে পানিতে ফুটিয়ে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জে Caulerpa খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে ও চাষাবাদ করে।

খাদ্য হিসেবে শৈবাল
খাদ্য হিসেবে শৈবাল

বর্তমান সময়ের একজন পেয়ে দেখা গেছে ২০% দৈনিক খাদ্যের ২৫% সামুদ্রিক শৈবাল। সবাইকে আমিষ চর্বি ভিটামিন সি বি ই এর উৎস হিসেবে ধারণা করার যথেষ্ট কারণ আছে কারণ হাঙরের যুক্তিতে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ডি এর প্রাচুর্য শৈবাল থেকেই প্রায় প্রাপ্ত।

শৈবালের কৃষি কাজে ব্যবহার:

কৃষিক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে মাটি ও পরিবেশ। কৃষিক্ষেত্রেও শৈবাল এর ভূমিকাও কোন অংশে কম নয়।

  • জমিতে পটাশের চাহিদা মিটানোর জন্য সামুদ্রিক শৈবালের ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
  • Pinceps, O. formosa, Anabaena, Spirulina, Oscillatoria, Nostoc, Cylindrospermum এসব সবুজ শৈবাল মাটিতে নাইট্রোজেন স্থিতিকরণের প্রধান ভূমিকা পালন করে। এর ফলে মাটির উর্বর শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং ধানসহ বিভিন্ন প্রকার ফসলের চাষে ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
  • নীলাভ সবুজ শৈবাল কোন কোন প্রজাতির অনুর্বর ও ক্ষারীয় অনাবাদী জমির ক্ষারত্ব নষ্ট করে জমিকে উর্বর ও চাষ উপযোগী করে তোলে।
  • কোন কোন দেশে চুনাপাথরের পরিবর্তে Lithothamnion Lichophyllum ও Chara শৈবাল ব্যবহার করে।
  • সমুদ্র উপকূলবর্তী জমিতে শৈবালকে জৈব সার ও কম্পোসার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
  • সামুদ্রিক আগাছাসদৃশ শৈবাল ঘন নির্যাস কীটনাশক ও সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
  • দূষিত মাটিকে পরিশোধন করতে Chlorella শৈবাল ব্যবহার করা হয়।
  • তেলাপিয়া মাছের ক্ষেত্রে Diatom জাতীয় শৈবালের চাষ করা হয় এর ফলে মাছের বৃদ্ধি দ্রুত ঘটে।
  • Chlorella সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে পানির CO2 ব্যবহার করে O2 নির্গত করে জলস প্রাণীর শ্বাস কাজে সহায়তা করে।

পশু খাদ্যে শৈবালের ব্যবহার:

গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে সামুদ্রিক শৈবালের গুরুত্ব অপরিসীম। আমেরিকা, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের উপকূলীয় অঞ্চল গুলির অধিবাসীগণ পশু ও হাঁস মুরগির খাদ্য হিসেবে Ascophyllum, fucus, Laminaria, Alaria, Sargassum, Microcystis ব্যবহার করে থাকে। এসব সামুদ্রিক শৈবাল হাঁস মুরগির ডিম উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তেমনি ডিমের কুসুমে আয়োডিন ও ক্যারোটিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। Peivetia সামুদ্রিক শৈবাল শুষ্ক করে গবাদি পশুকে খাওয়ালে দুগ্ধ উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে যায়।

গবেষণা ও শিল্প কারখানায় শৈবালের ব্যবহার:

আগার আগার:

আগার হচ্ছে একটি স্বচ্ছ নাইট্রোজেন যুক্ত, জিলেটিন জাতীয় পদার্থ, এটি নিম্ন তাপমাত্রায় জমাট বাঁধে; কিন্তু প্রায় ৯০ ডিগ্রি থেকে ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় দ্রবীভূত হয়। দুর্বল রোগের পথ্য উপকরণ দ্রব্য তৈরিতে মূল্যবান সামগ্রী হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। চামড়া, প্রসাধনী, ঔষধ, বস্ত্র এসব শিল্পেও ব্যবহার করা হয়। বেকারি দ্রব্য, মাংস শিল্প ও দুগ্ধজাত দ্রব্যাদিতে ইমাল শিফার রূপে এটি ব্যবহার করা হয়।

অ্যালজিনিক এসিড:

অ্যালজিনিক এসিড হলো এক প্রকার কলয়ডীয় কার্বোহাইড্রেট। এ এসিডের দ্রবনীয় ক্যালসিয়াম সল্টকে আলজিন বলে। প্রভৃতি শৈবাল থেকে প্রাপ্ত অ্যালজিনিক এসিড একটি মূল্যবান শিল্প পন্য। এগুলো খাদ্যশিল্পে, প্রসাধনী, বস্ত্র শিল্পে প্রিন্টিং পেস্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কৃত্রিম সুতা ও প্লাস্টিক উৎপাদনেও এর ব্যবহার রয়েছে। আলজিন দ্রব্যটি কমপক্ষে হলেও ৮০ বাণিজ্যিক দ্রব্যে ব্যবহার করা হয়। এটি জুতা পালিশ তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়।

ক্যারাজিনীয় :

ক্যারাজিনীয় হলো Chondrus Crispus ও Gigartina এর কোষ প্রাচীর হতে প্রাপ্ত পলিস্যাকারাইড ও মিউসিলেজিনাস নির্যাস। এ শিল্প পণ্যটি খাদ্য, বস্ত্র, চামড়া ও ওষুধ শিল্পে ব্যবহার করা হয়। এটি টুথ পেস্ট, প্রসাধনী বদনাশক দ্রববাদীতেও উপকরণ হিসেবে সমান কার্যকর।

কেল্প শিল্প:

কেল্প হচ্ছে Laminaria, Ecklomia, Fucus, Eisenia, Saccorhiza নামক পিঙ্গল শৈবালের দ্রবীভূত ছাই বিশেষ। এতে প্রধানত সোডা পটাশ ও আয়োডিন থাকে। এটি ফিটকিরি ও সাবান তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

আটা তৈরিতে :

Gleopeltis furcata নামক লোহিত শৈবাল হতে জাপানে ‘ফুরেনি’ নামক এক ধরনের আটা তৈরি হয়। এটি বস্ত্র ও কার্পেট সাইজিং এ ব্যবহৃত হয়।

ঔষধ শিল্পে শৈবালের ব্যবহার:

ওষুধ শিল্পে শৈবাল এর ব্যবহার বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

  • ফুসফুস মূত্রথলি ও কিডনির নানাবিধ পীড়া নিরাময়ের জন্য ইউনানী হেমিকগণ বিভিন্ন প্রকার শৈবাল ব্যবহার করেন।
  • Laminaria, Fucus, Gelidium, Sargassum, Codium প্রকৃতি শৈবাল থেকে আয়োডিন নিষ্কাশন করা হয়। এইসব শৈবাল শুকিয়ে চূর্ণ করে ‘গয়টার’ বা গলগন্ড রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • সংকুচিত পাকস্থলী বিশিষ্ট রোগীকে আগার আগার ও পানি সেবন করিয়ে পাকস্থলীর সংকোচন নিরাময় করা হয়।
  • Cholorella শৈবাল থেকে ফ্লোরেলিন নামক জীবাণুর প্রতিরোধ ওষুধ তৈরি করা হয়।
  • Chara এবং কারালিস বর্গের অন্যান্য শৈবাল মশার শুককীট ধ্বংস করে।

মহাশূন্য যানে শৈবালের ভূমিকা:

মহাকাশচারী ৩০ দিনের মতো মহাকাশ অবস্থান করলে তাদের জন্য অক্সিজেন এর প্রয়োজন তেমনি কার্বন-ডাই-অক্সাইড দূরীকরণ প্রয়োজন। এছাড়াও খাদ্যের প্রয়োজন ও মূল মন্ত্রের জন্য সুব্যবস্থা দরকার। এজন্য আণুবীক্ষণিক এককোষী সবুজ শৈবাল Chlorella, Phyrenoidosa ও Synechococca মহাকাশ যানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। এই শৈবাল খুব দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে ফলে মহাকাশূন্যে গুলো একাধারে খুব দ্রুত গ্রহণ করে এবং মলমূত্র জারিত পতিত করে প্রোটিন তৈরিতে, নাইট্রোজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে।

বিনোদনের শৈবাল ব্যবহার:

আমাদের বিনোদনের অংশ হিসেবেও শৈবাল এর ব্যবহার রয়েছে যেমন অ্যাকুরিয়ামে মাছের খাদ্য হিসেবে ফাইটোপ্লাংটন ব্যবহৃত হয়।

শৈবালের অপকারিতা

উপকার এবং অপকার অতপ্রতভাবে জড়িত। এটি ঠিক যেন এপিঠ এবং ওপিঠ। তাই শৈবাল যেমন উপকার করে তেমনি ক্ষতিও করে। শৈবালের অপকারিতা নিম্নে উপস্থাপন করা হলো-

ওয়াটার ব্লুম সৃষ্টিতে:

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাদু পানির হ্রদ,পুকুর, দিঘী ,নদনদী বা জলাশয়ে ফসফরাস, নাইট্রোজেন ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ হলে ফাইটোপ্লাংকটনের আধিক্য এত বেশি হয় যে পানির উপর নানা বর্ণের আস্তরণ পড়ে। এই আস্তরণকে ওয়াটার ব্লুম বলে। এক্ষেত্রে নীলাভ সবুজ শৈবালের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

কখনো কখনো ওয়াটার ব্লুম জনিত কারণে পানিতে আশটে গন্ধ পাওয়া যায় ,পানি বিষাক্ত হয় এবং প্রাণীকুলের ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে নীলাভ সবুজ শৈবাল Microcystis Anabaena. সবুজ শৈবাল Gonium,Pandorina,Eudorina,লাল রং তৈরির জন্য Euglena, Trachelomonas.অতিমাত্রায় ফাইটোপ্লাংকটন সমৃদ্ধ জলাশয় এর পানি পান করে গবাদি পশুর হৃৎপিণ্ড ফুসফুস ও পরিপাকতন্ত্র বিভিন্ন রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়। কখনো কখনো ফাইটোপ্লাংকটন গুলো মাছের ফুলকায় আটকে গিয়ে মাছের মৃত্যু ঘটায়।

পানির বর্ণ পরিবর্তনে:

বিভিন্ন প্রকারের শৈবালের সংখ্যাধিক্যের কারণে পুকুর ও অন্যান্য জলাশয়ের পানি রঙ্গিন হয়ে মাছের শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি করে, জলাশয়ের পানি দূষিত হয়, এমন কি মাছের মৃত্যু ঘটায় এবং ওই প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়। এ সময়ে পুকুরের পানি ব্যবহার করা ঠিক নয়‌।

বিষাক্ত পদার্থ নিঃসরণে:

Microcystis,Anabaena,Aphanozimenonপ্রভৃতি ফাইটোপ্লাংটন গুলো পানিকে নিউরোটক্সিন নামক বিষাক্ত পদার্থ নিঃসরণ করে। কখনো কখনো শৈবালের মিউসিলেজ আবরণে নানাবিধ ব্যাকটেরিয়া ও মারাত্মক রোগ জীবাণু আবাসস্থল গড়ে তোলে এবং মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মারাত্মক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

রাস্তাঘাট পিচ্ছিল করে:

বৃষ্টির সময় কিছু নীলাভ সবুজ ও সবুজ শৈবাল স্যাতসেতে ভেজা জায়গায় জন্মে রাস্তাঘাট পিচ্ছিল করে ফলে পথচারীর চলাচলে অসুবিধা হয়।

সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলে:

সামুদ্রিক শৈবাল
সামুদ্রিক শৈবাল

সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজের তলদেশে শৈবালের এর সংখ্যাধিক্যের কারণে জাহাজের গতি মন্থর করে জাহাজের প্রচুর ক্ষতিসাধন করে। যেমন -সারগাসো সাগরে sargassum এবং সংখ্যাধিক।

জলজ প্রাণীদের চলাচলে বাঁধা প্রদান:

পানিতে সুত্রবৎ শৈবালের সংখ্যাধিক্যের কারণে মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর স্বাচ্ছন্দে চলাচল বিঘ্নিত হয়। কখনো কখনো তারা মৃত্যুর কারণ হয়েও দাঁড়ায়।

মানব স্বাস্থ্যের ক্ষতিসাধন

কিছু শৈবাল প্লাংকটন, মশার লার্ভার পুষ্টি যোগায়। ফলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও ফাইলেরিয়া রোগের দ্রুত বিস্তার ঘটে।অধিক ডায়ানোফ্লাজিলেট ভক্ষণকারী মাছের দেহে ক্ষতিকর টক্সিক পদার্থ তৈরি হয়। এই মাছ ভক্ষণে মানুষের মৃত্যু ও ঘটতে পারে।

উদ্ভিদ দেহে রোগ সৃষ্টিতে:

উন্নত উদ্ভিদের পরাশ্রয়ী শৈবাল আশ্রয়দাতা উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণে বাধা সৃষ্টি করে এবং আশ্রয়দাতার প্রভূত ক্ষতিসাধন করে। Cephaleuros শৈবাল চা ও কফি গাছের লোহিত মরিচা রোগ সৃষ্টি করে এবং উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

প্রাণী দেহে রোগ সৃষ্টিতে:

অতিমাত্রায় ফাইটোপ্লাংকটন সমৃদ্ধ জলাশয়ের পানি পান করে গবাদি পশুর হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও পরিপাকতন্ত্র বিভিন্ন রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়। Anabaena,Gloetrichia,Microcystis প্রভৃতি শৈবালের দেহ মিশ্রিত পদার্থ গবাদিপশুর যকৃতের বৃদ্ধি ঘটায় যা গবাদি পশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। কখনো কখনো ফাইটোপ্লাংকটন গুলো মাছের ফুলকায় আটকে গিয়ে মাছের মৃত্যু ঘটায়।

লোহিত জোয়ার সৃষ্টিতে:

সাগরের তীরবর্তী অঞ্চলে লাল বা হলুদ বর্ণের ফাইটোপ্লাংকটনের সংখ্যাধিক্যের জন্য পানি সুপের (লাল রং) মত হয়ে যায়। Gymnodinium breve,Giniaulux catenella ইত্যাদি ডাইফ্লাজিলেটস নামক শৈবালের দেহে রঞ্জক পদার্থ বৃদ্ধি পায় ,ফলে এদেরকে লাল দেখায়। পানিতে NPK এবং B যদি বেশি হয় তখন এরা সংখ্যায় এত বেশি হয় যে রক্তের মতো লাল রং ধারণ করে এবং পানিকে সুপের মতো মনে হয়। এ অবস্থাকে লোহিত জোয়ার বলে। ফলে সাগরের তীরবর্তী অঞ্চলের পানি খুবই বিষাক্ত হয়, এমনকি যেসব মাছ এ অঞ্চলে পাওয়া যায় সেগুলো বিষাক্ত হয়।

তবে রেড টাইড অঞ্চলে কোন প্রাণী বাঁচতে পারে না। রেড টাইড অঞ্চলে গোসল করলে মানুষের চামড়ায় ফুসকুড়ি, চুলকানি ,বমি বমি ভাব, পক্ষাঘাত হতে পারে ।চোখে পানি গেলে অন্ধ হওয়ার ভয় থাকে। রেড টাইড অঞ্চলে সামুদ্রিক মাছের চলাচলের পথে বিভিন্ন বাধা সৃষ্টি হয়। মাছ বিভ্রান্ত হয়ে ভিন্ন পথে চলাচল করে ফলে মাছ যে এলাকায় ডিম পাড়বে সে স্থানে পৌঁছতে পারে না ।কোন কোন এলাকায় মাছের ঘাটতি দেখা যায় । রেড টাইড অঞ্চলের মাছ বিষাক্ত হয় ফলে খাবারের অযোগ্য হয়।

লোহিত সাগর নামটি প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে করা হয়েছে। কিন্তু এরূপ নামকরণের কারণ অল্প কিছুদিন পূর্বে জানা গেছে। এ সাগরে লোহিত জোয়ার সৃষ্টির পেছনে যে ফাইটোপ্লাংকটন বিশেষ ভূমিকা রেখেছে তার নাম Trichodesmium erythraeum এটি Oscillatoria শৈবালের ন্যায় সূত্রাকৃতি ও বহুকোষী। এ শৈবালটি অধিক মাত্রায় উপস্থিতি থাকার কারণে সাগরের পানি লোহিত বর্ণের দেখায়। এজন্য এ অঞ্চলের সাগরকে লোহিত সাগর (Red sea) বলে।

  • শৈবাল কোন জাতীয় উদ্ভিদ?

    শৈবাল সালোক সংশ্লেষণকারী স্বভোজী উদ্ভিদ হলে, এটি সুকেন্দ্রিক, এককোষী বা বহুকোষী।

  • শৈবাল সাগর কাকে বলে?

    শৈবাল সাগর, অথবা Sargasso Sea, হলো সমুদ্রের মধ্যে স্রোতহীন একটি অঞ্চল, যেখানে শৈবাল এবং অন্যান্য সাগরিক উদ্ভিদ জন্ম নেয়। এটা পৃথিবীর একমাত্র ‘সাগর’, যেখানে কোনো উপকূল নেই। এটি প্রায় ১,১০৭ কিমি প্রশস্ত এবং ৩,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বা বিস্তৃত।

  • শৈবাল শব্দের ইংরেজি কি?

    শৈবাল শব্দের ইংরেজি হলো: Algae.

Spread the love

Leave a Comment