ডায়রিয়া কি? ডায়রিয়া হলে করণীয় কি ও মুক্তির উপায় সমূহ।

ডায়রিয়া খুব পরিচিত একটি রোগ। ডায়রিয়া মূলত খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ। খাবার ও পানির মাধ্যমে জীবাণু শরীরের ভেতর প্রবেশ করে।

ডায়রিয়া সাধারণত তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। ডায়রিয়ার সবচেয়ে বড় জটিলতা হচ্ছে পানি শূন্যতা। পানি শূন্যতা হলে রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে এমনকি রোগী মারাও যেতে পারে।

ডায়রিয়া কি?

ডায়রিয়া হলো পাতলা বা জলীয় মল হওয়ার অবস্থা যা সাধারণত বারবার হয়। এটি বিভিন্ন জিনিসের কারণে হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে সংক্রমণ, খাদ্য বিষক্রিয়া মত বিভিন্ন কারণে।

আপনার যদি ডায়রিয়া হয় তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি স্যালাইন বা অন্যান্য ইলেক্ট্রোলাইট প্রতিস্থাপন পানীয় পান করতে পারেন। আপনি হালকা খাবারও খেতে পারেন, যেমন ভাত, টোস্ট এবং কলা।

ডায়রিয়া হওয়ার কারণ

  • মুক্ত অঞ্চলে মলত্যাগ করার ফলে।
  • বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ডায়রিয়া যেমন- সালমোনেলা(salmonella ),সিজেলা(shigella flexneri), ব্যাসিলাস(Bacillus cereus), ইশ্চেরিশিয়া কোলাই(Escherichia coli), ভিব্রিও(Vibrio) ইত্যাদি ডায়রিয়া ঘটাতে পারে।
  • ভাইরাস ঘটিত ডায়রিয়া।
  • ছত্রাক ঘটিত ডায়রিয়া।
  • কৃমি ঘটিত ডায়রিয়া।
  • প্রোটোজোয়া ঘটিত ডায়রিয়া।
  • অসংক্রমিত ও অজানা কারণে ডায়রিয়া।

ডায়রিয়া কত প্রকার?

ডায়রিয়া তিন ধরনের। যেমন-

১. একিউট ওয়াটারি ডাইরিয়া(Acute Watery Diarrohea): পাতলা পায়খানা যদি ১৪ দিনের কম স্থায়ী হয় এবং পায়খানার সাথে কোন রক্ত না যায়।
২. পারসিসট্যান্ট ডায়রিয়া (Persistent Diarrohea):পাতলা পায়খানা ১৪ দিনের বেশি স্থায়ী হলে।
৩. ডিসেন্ট্রি ডায়রিয়া (Dysentery Diarrohea):রক্ত মিশ্রিত পায়খানা হলে।

ডায়রিয়া রোগের লক্ষণ:

প্রধান লক্ষণ:

  • বারবার পাতলা পায়খানা:
    • তিনবার বা তার বেশি পাতলা পায়খানা হওয়া।
    • পানিশূন্য পায়খানা হওয়া।
    • রক্ত বা শ্লেষ্মাযুক্ত পায়খানা।
    • পায়খানার তীব্র গন্ধ হওয়া।

অন্যান্য লক্ষণ:

  • পেটে ব্যথা ও খিঁচুনি হতে পারে।
  • বমি বমি ভাব ও বমি হতে পারে।
  • ক্ষুধামান্দ্য দেখা দিতে পারে।
  • দুর্বলতা অনুভব করা।
  • মুখ ও জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া।
  • প্রস্রাব কম হওয়া।
  • জ্বর হওয়া।

শিশুর ডায়রিয়া রোগের লক্ষণ

ডায়রিয়া হলে কিছু বিপদজনক লক্ষণ প্রকাশ পায় যা সবার জানা প্রয়োজন এর মধ্যে কোন একটা লক্ষণ দেখামাত্র চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে লক্ষণগুলো হচ্ছে-

১. শিশুর নিস্তেজ হয়ে পড়া
২. চোখ বসে যাওয়া
৩. বুকের দুধ টেনে খেতে না পারা
৪. অন্য কোন তরল খাবার না খাওয়া বা খুব কম পরিমাণে খাবার খাওয়া
৫. বারবার বমি করা

ডায়রিয়া হলে করণীয় কি?

ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী
ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী
  • ডায়রিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি বা শিশুর শরীর থেকে পানি বের হয়ে যাওয়ায় পানি শূন্য হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে, ফলে শিশুকে বারবার তরল খাবার যেমন – ডাবের পানি, চিড়ার পানি, ভাতের মাড়, টক দই ও লবন গুরের শরবত ইত্যাদি বেশি করে খেতে দিতে হবে।
  • তরল খাবারের পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন দিতে হবে। ব্যক্তি বা শিশুর ওর স্যালাইনের পরিমাণ হচ্ছে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর ২৪ মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য ৫০ থেকে ১০০ মিলি ,২ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুর জন্য ১০০ থেকে ২০০ মিলি এবং ১০ বছরের অধিক বয়সীদের জন্য চাহিদা অনুযায়ী।
  • যারা বুকের দুধ খায় তাদেরকে বারবার বুকের দুধ দিতে হবে।
  • শিশু যদি বমি করে তাহলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার খাওয়াতে হবে।
  • তাজা ফলের রস দিলে পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ হবে।
  • ডায়রিয়া ভালো হয়ে গেলেও পরবর্তী দুই সপ্তাহ শিশুকে এরকম ভাবে বাড়তি খাবার প্রতিদিন দিতে হবে।
  • চিকিৎসকের এর পরামর্শ ব্যতীত কোন এন্টিবায়োটিক বা অন্য কোন ঔষধ শিশুকে খাওয়ানো যাবে না।
  • মনে রাখতে হবে ডায়রিয়াজনিত পানি শূন্যতার কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুর হার এখনো অনেক বেশি । কিছু সামাজিক কুসংস্কারের কারণে আক্রান্ত শিশুকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করা হয় না বলেই আমাদের দেশের চিত্রটা এমন। কিন্তু সঠিক জ্ঞান থাকলে ঘরে থেকেই ডায়রিয়াজনিত পানি শূন্যতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ডায়রিয়া থেকে মুক্তির উপায় বা প্রতিরোধ

  • ডায়রিয়া হলে এটা নিজে নিজেই সেরে যায়। রোগ যতদিন চলে ততদিন রোগীকে স্যালাইন খাওয়াতে হয়। স্যালাইন শরীরে পানি শূন্যতা রোধ করে। কলেরা জীবাণু দ্বারা ডায়রিয়া হলে প্রতিদিন শরীর থেকে ২০ থেকে ৩০ লিটার পানি বের হয়ে যায়। যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তার যতদিন রোগ চলে ততদিন রোগীকে খাওয়ার স্যালাইন খাওয়াতে হবে।
    • ইউনিসেফ এর মতে মলত্যাগ করার পর সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়া ডায়রিয়ার সম্ভাবনা ৪০% কমিয়ে দেয়। এজন্য অবশ্যই মলত্যাগের পর সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করবেন।
  • কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডায়রিয়া প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়েছে। এর মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য হলো কলেরা ভ্যাকসিন । রোটা ভাইরাসের বিরুদ্ধেও ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়েছে।
Spread the love

Leave a Comment