সিটি স্ক্যান কী? কেন করা হয় ও ক্ষতিকর দিক? কত সময় লাগে?

সিটি স্ক্যান শব্দটি ইংরেজি- Computer Tomography Scan এর সংক্ষিপ্ত রূপ। প্রতিবিম্ব তৈরির একটি প্রক্রিয়া হল CT scan।

এই প্রক্রিয়ায় ত্রিমাত্রিক বস্তুর কোন ফালি বা অংশের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয় এই প্রক্রিয়াকে টোমোগ্রাফি বলে। সিটি স্ক্যান একটি বৃহত্তর যন্ত্র। এই যন্ত্রে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। এক্সরে যেখানে শরীরে অভ্যন্তরের কোন ত্রিমাত্রিক অঙ্গের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব গঠন করে সেখানে সিটিস্ক্যান যন্ত্র দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবিম্ব ত্রিমাত্রিক।

সিটি স্ক্যান কীভাবে রোগ নির্ণয় করে?

ডিজিটাল জ্যামিতিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে কোন বস্তুর অভ্যন্তরের ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব গঠন করে সিটি স্ক্যান যন্ত্র। একটি ঘূর্ণন অক্ষের সাপেক্ষে অনেকগুলো দ্বিমাত্রিক এক্সরে প্রতিবিম্ব নেওয়ার পর এগুলোকে একত্রিত করে ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। এই কাজটি সম্পূর্ণ হয় কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে। বৃত্তাকার পথে ঘুরার সময় সিটিস্ক্যান যন্ত্র পরপর অনেকগুলো সরু এক্সরে বিম রোগীর শরীরের মধ্য দিয়ে প্রেরণ করে।

সিটি স্ক্যান চিত্র
ছবি সিটি স্ক্যান

অথচ এক্সরে করার সময় রোগীর দেহে শুধু মাত্র একবার এক্সরে বিম অতিক্রম করে। ফলে এক্সরে এর তুলনায় সিটি স্ক্যানের চিত্র অনেক নিখুঁত। সিটিস্ক্যান যন্ত্রের ব্যবহৃত এক্সরে ডিটেক্টর এর সাহায্যে রোগীর দেহের বিভিন্ন ঘনত্বের স্তর শনাক্ত করা যায়। ডিটেক্টর দ্বারা সংগৃহীত ডাটা কম্পিউটারে প্রেরণ করা হয়। কম্পিউটার পরে শরীরের কোন অংশের ত্রিমাত্রিক ছবি গঠন করে এবং পর্দায় ডিসপ্লে করে।

সিটি স্ক্যান যন্ত্রের ব্যবহার

সিটি স্ক্যানের প্রতিবিম্ব চিকিৎসককে টিউমার সনাক্তকরণ, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং টিউমারটি পার্শ্ববর্তী অন্য টিস্যুকে কি পরিমাণ আক্রান্ত করেছে তা নির্ধারণে সাহায্য করে। সিটিস্ক্যান এর সাহায্যে শরীরের নরম টিস্যু, রক্তবাহী শিরা বা ধমনী, ফুসফুস, ব্রেন ইত্যাদির ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া যায়।

সিটি স্ক্যান যন্ত্র
সিটি স্ক্যান যন্ত্র

যকৃত, ফুসফুস এবং অগ্ন্যাশয় এর ক্যান্সার সনাক্ত করার কাজে সিটি স্ক্যান ব্যবহৃত হয়। মাথার সিটি স্ক্যানের সাহায্যে মস্তিষ্কের ভিতরে কোন ধরনের রক্তপাত, ধমনীর ফোলা এবং টিউমারের উপস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়। আমাদের দেহে রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা আছে কিনা তাও জানা যায় সিটিস্ক্যানের মাধ্যমে।

সিটি স্ক্যান এর ক্ষতিকর দিক

গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে সিটিস্ক্যান পরীক্ষা করা হয় না। কারণ সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয় ‘ডাই’ তাই গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এলার্জিজনিত বিক্রিয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে সিটি স্ক্যান করা শিশুদের জন্য ক্ষতিকর।

এক্সরের চেয়ে কি সিটি স্ক্যান নিরাপদ?

না। সিটি স্ক্যানের চেয়ে এক্স রে নিরাপদ। কারণ, সিটি স্ক্যানের তুলনায় এক্সরে তে রেডিয়েশন কম থাকে। সিটি স্কেনে রেডিয়েশন বেশি থাকায় অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এজন্য সিটি স্ক্যানের জন্য তুলনায় এক্সরে নিরাপদ।

তবে, এক্সরে টু ডাইমেনশনাল চিত্র তৈরি করতে পারে আর সিটি স্ক্যান থ্রিডাইমিনেশনাল চিত্র তৈরি করতে পারি। এদিক থেকে এক্সরে তুলনায় সিটি স্ক্যান প্রয়োজনীয়।

সিটি স্ক্যান করলে কি কোন ক্ষতি হতে পারে?

হ্যা, সিটি স্ক্যান করলে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে।

গর্ভবতী মহিলাদের কি সিটি স্ক্যান করা যায়?

না। বেশি রেডিয়েশন থাকার কারণে শিশুর ক্ষতি হতে পারে এজন্য গর্ভবতী মহিলাদের সিটিস্ক্যান করা হয় না।

সিটি স্ক্যান করতে কত টাকা লাগে?

সাধারণত সরকারি হাসপাতালে সিটি স্ক্যানের ধরন অনুযায়ী ৩০০০ থেকে ৮০০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে ।কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।

সিটি স্ক্যান মেশিনের দাম কত?

১ কোটি টাকা থেকে শুরু করে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে মেশিনের ধরন অনুযায়ী এই দামটি নির্ধারিত হয়।

সিটি স্ক্যান করতে কত সময় লাগে?

এটি চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল। গড়ে অনুমানিক প্রায় ৪৫ মিনিট এর মত।

Spread the love

Leave a Comment